জামায়াতের ইফতারে বিএনপির প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ইফতারে প্রধানমন্ত্রী ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান একই টেবিলে বসেছিল। তাদের সঙ্গে ছিল বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা। পাশের টেবিলে ছিল জামায়াতের নায়েবে আমির, একাত্তরের আল বদর কমান্ডার এটিএম আজহার।

মুক্তিযুদ্ধের পর জামায়াতসহ অন্যান্য ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামী, এটিএম আজহারসহ অনেকেই পাকিস্তানে পালিয়ে ছিল। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর পাকিস্তানপন্থী জেনারেল জিয়াউর রহমান তাদেরকে দেশে ফিরে রাজনীতি করার সুযোগ দেয়।

এরপর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে পর্দার অন্তরাল থেকে জামায়াতের সমর্থনে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। ১৯৯২ সালে গোলাম আযমকে নাগরিকত্ব দিয়ে রাজাকারবিরোধী গণআদালত দমন করে জিয়ার স্ত্রী খালেদা জিয়া।

২০০১ সালে তারেক রহমানের উদ্যোগে জামায়াত বিএনপির সাথে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করে আবার ক্ষমতায় আসে। মন্ত্রীত্ব পায় আল বদর প্রধান নিজামী ও অন্যতম কমান্ডার আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ। তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় জেএমবি ও হুজির জঙ্গীরা গ্রেনেড ও চাপাতি হামলা করে আওয়ামী লীগ ও বামপন্থী দলের নেতাকর্মী এবং লেখক-সাংস্কৃতিক কর্মীদের হত্যা করে।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে জামায়াতের মদদে জঙ্গীরা আবার মাথাচাড়া দেয়। দুই মাসের মধ্যে বিএনপি ও জামায়াত জঙ্গীদের ব্যবহার করে পিলখানায় সেনাকর্মকর্তাদের হত্যা করে, পরের বছর সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টা করে, সংবিধান সংশোধন ও রাজাকার সাঈদী ও কাদের মোল্লার বিচার বন্ধ করতে পুলিশসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা করে এবং আগুন সন্ত্রাসের মাধ্যমে অরাজকতা তৈরি করে।

Talks on police murder probe terrifying July anarchists

ইউনূস কেন সরকার উৎখাতে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে?

Jihad in Bangladesh: AQIS vs ISIS

Terrific operations of Islamic State (ISIS) in Bangladesh

একই সময় জঙ্গীদের ব্যবহার করে লেখক, শিক্ষক, বিদেশী, সংখ্যালঘু ও পুলিশদের হত্যা করে এবং ২০১৮ সালে সরকার উৎখাতের জন্য কোটাবিরোধী ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে মদদ দেয় বিএনপি জামায়াত। সর্বশেষ ২০২৩ সাল থেকে আবার রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে নামে এই দুই দল।

২০২৪ সালের জুলাই আগস্টে উগ্রবাদী ছাত্র শিবির, ছাত্রদল ও মাদ্রাসার ছাত্রদের ব্যবহার করে পুলিশ মেরে ও আগুন সন্ত্রাস করে ক্ষমতা দখল করে তারা। সেনাপ্রধান, সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিক নেতাদের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় বসে বিএনপি-জামায়াত নিয়ন্ত্রিত আমেরিকার পাপেট ইউনূস ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে পাকিস্তানিকরণ শুরু হয়। ভেঙে ফেলা হয় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন, বদলে যায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, দন্ডিত রাজাকার, জঙ্গী ও ভয়ঙ্কর জঙ্গীরা জামিনে মুক্ত হয়। অগণতান্ত্রিক উপায়ে আইন সংশোধন করে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয় এবং জামায়াত নিয়ন্ত্রিত ক্যাঙ্গারু ট্রাইব্যুনালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, এবং সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের বিচার শুরু হয়।

এরপর ২০২৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগ ও অসংখ্য গণতান্ত্রিক দলকে বাইরে রেখে “আমরা আর মামুরা”র নির্বাচন করে আসন ভাগাভাগি করে নেয় বিএনপি, জামায়াত ও শিবির নিয়ন্ত্রিত ইউনূসের দল এনসিপি। এই মব সন্ত্রাসী, খুনি, লুটেরা, ধর্ম ব্যবসায়ী এবং রাজাকার ও তাদের বংশধর নিয়েই গঠিত হলো নতুন সরকার ও সংসদ। গত ২১শে ফেব্রুয়ারি জামায়াত ৫৪ বছরের মধ্যে প্রথম শহিদ মিনারে ভাষা শহিদদের স্মৃতিতে পুষ্পস্তবক দিয়েছে। তখন জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের পাশে ছিল রংপুরের আল বদর কমান্ডার আজহার। আরও ছিল চট্টগ্রামের আল বদর কমান্ডার মীর কাশেম আলীর ছেলে মীর আহমদ বিন কাশেম আরমান। সেখানে একুশের গান না গেয়ে নারায়ে তাকবির ও ইনকিলাব জিন্দাবাদ শ্লোগান দিয়েছে ছাত্র শিবির ও এনসিপি।

সম্প্রতি বিএনপি গণপরিষদের শপথ না নেয়ায় এবং পুলিশ হত্যার তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেয়ায় আন্দোলনে নামার হুমকি দিচ্ছে জামায়াত ও এনসিপি। এমন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী হয়েও জামায়াতের ইফতারে যাওয়াটা চলমান শত্রুতা কমানোর উদ্যোগ হিসেবে মনে করছি। কেননা ২০২৪ সালের জুলাই আগস্টে এবং পরবর্তী ১৮ মাসে সংঘটিত সকল সন্ত্রাস ও লুটপাটের দায় এদের সবার।